কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ভারী যানবাহন। ভোগান্তিতে স্থানীয়রা। (৬ নভেম্বর) শুক্রবার সকালে সেতুর ওপর একটি বালুবাহী ট্রাক্টর আটকে গেলে ট্রাকসহ সব ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে সেতুর দুই প্রান্তে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে গেছে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটির। অনেক জায়গায় খুলে গেছে স্টিলের প্লেটও। তবুও জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছিলেন চালক ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের সময় দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। স্বাধীনতার পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারীর পূর্ব উত্তরে দুইটি ইউনিয়ন সোনাহাট ও চরভূরুঙ্গামারী এবং দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়ন বলদিয়া, কচাকাটা ও মাদারগঞ্জ এলাকার সঙ্গে চালু করা হয় সড়ক যোগাযোগ।
নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসাবে প্রায় ৪০ বছর আগেই শেষ হয়েছে এর মেয়াদ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নড়বড়ে সেতুটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও। বারবার সেতুটি ভেঙে যানচলাচল বন্ধ হয়। ভোগান্তির পর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। গতকাল মুমূর্ষু রোগী পারাপারে বিগ্ন ঘটায় সঠিক সময় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পৌঁছাতে পারেনি। এক পথযাত্রী বলেন, সোনাহাট সেতুটি একটি মরণ ফাঁদ আমরা যারা সাধারণ জনগণ সময়মতো গন্তব্য স্থলে পোঁছেতে পারিনা। স্থানীয়দের একটাই দাবি দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে হলে নতুন সেতুটি ২০২৬ সালের মধ্যে চালু করা হউক। এজন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন।