• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
Headline
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী রাজারহাটে শহীদ রাজিবের কবরে শুদ্ধা নিবেদন করলেন উপজেলা প্রশাসন বাঁশঝাড় থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্যান্টের কাপড়,প্যান্টপিস ও ৬০ কেজি জিরা জব্দ বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আরও দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী সৌদি আরব : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী উলিপুরে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন রাজারহাটে ৩ সপ্তাহ ধরে বন্ধ মিড ডে মিলের বিস্কুট বিতরণ প্রত্যন্ত চরাঞ্চল নারায়নপুরে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন: নারীদের কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ উদ্বোধন বেতারের গুণী শিল্পী তরনী কান্ত রায় আর নেই

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী

যুগের খবর ডেস্ক: / ১২ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রতিটি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে (গণভবন) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার অত্যন্ত জরুরি। বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে তাদের নামে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত একটি করে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান তুলে ধরার জায়গা নয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন।
দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন এমন কোনো ইস্যু তৈরি না করেন, যা পতিত স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হয়েছেন। আন্দোলন দমাতে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল, যা সভ্য বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। একই সঙ্গে এখানে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইতিহাস নয়, সত্যনির্ভর তথ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা উচিত। পাশাপাশি জাদুঘরের তথ্য বাংলা ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপনের পরামর্শ দেন, যাতে বিদেশিরাও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারেন।
জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, আহত যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে দাঁড়ানো সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা