বাংলাদেশ বেতারের গুণী শিল্পী ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক-আবৃত্তিকার শ্রী তরনী কান্ত রায় আর আমাদের মাঝে নেই। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরমতী সেনপাড়া গ্রামে। তিনি সম্ভান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। মৃত্যু ৭মাস আগে তাঁর সধর্মিনী বিয়োগ হন। তিনি ২কন্যাসহ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও অসংখ্য ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর মৃত্যুতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। মঙ্গলবার(৪আগষ্ট) সকালে পারিবারিক শ্বশানে তাঁর শেষকৃত অন্তুষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, তরুণী কান্ত রায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া গানের একজন প্রখ্যাত ও প্রতিষ্ঠিত গুণী শিল্পী। যিনি বাংলাদেশ বেতারের সাথে যুক্ত থেকে এই আঞ্চলিক গান প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেতার শিল্পী হিসেবে শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে ছিলেন। তাঁর কণ্ঠের আবৃত্তি ও উপস্থাপনা ছিল শ্রুতিমধুর এবং প্রাণবন্ত, যা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি শুধু একজন শিল্পীই নন, ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্যসেবক, যিনি নিরলসভাবে সংস্কৃতিচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
এছাড়া প্রেসক্লাব রাজারহাট’র সাধারণ সম্পাদক ও আলোকিত রাজারহাট এর সম্পাদক ও প্রকাশক প্রহলাদ মন্ডল সৈকতসহ সাংবাদিকবৃন্দ, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম ভাওয়াইয়া একাডেমি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর মতো একজন প্রতিভাবান শিল্পীর চলে যাওয়া দেশের সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর সৃষ্টিশীলতা, কণ্ঠশৈলী ও মানবিক গুণাবলী আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।আমরা বিদেহী আত্মার মোক্ষ লাভ কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।