• শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
আজ থেকে ৫দিন ব্যাপী দূর্গাপূজা আরাম্ভ,কঠোর নিরাপত্তা জোরদার দুর্গামন্ডপ পরিদর্শন করলেন রাজারহাট ইউএনও তানজিলা তাসনিম ভূরুঙ্গামারীতে ইউনিয়ন বিএনপির ঘোষিত কমিটি বাতিলে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম কুড়িগ্রামে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাসহ ৬জন সরকারি চাকরিজীবী সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘিত দুর্গাপূজা ঘিরে কুড়িগ্রামে বিজিবির বিশেষ নজরদারি দুর্গম চরের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিল কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন পরিষদ ‘ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে রুখতে চরে ভাসমান স্কুল ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় জরুরি’ কু‌ড়িগ্রা‌মে জোড়া খুনের মামলার রায়, একজনের যাবজ্জীবন ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার,এতে নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে কুড়িগ্রামে সাড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১ কুড়িগ্রামে একই পরিবারের ৬ জনই মানষিক অসুস্থ

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার,এতে নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

আব্দুল লতিফ, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ / ১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে দুধকুমার নদ। বর্ষায় তাণ্ডব চালানো এ নদ এখন শান্ত। তবে গভীর রাতে নদটির বুকে ঘটছে অমানবিক ঘটনা। ব্যাটারি ও ইনভার্টারের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্বিচারে মারা হচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। দেশীয় মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধকুমার নদে অসাধু মাছ শিকারিদের আনাগোনা বাড়ে। নৌকায় স্থাপিত ব্যাটারি ও ইনভার্টারের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে অন্য উপজেলা থেকে আসা একটি চক্র এ পদ্ধতিতে নিয়মিত মাছ ধরছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পানিতে বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগ করলে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যায়। পরে লম্বা বাঁশের মাথায় লাগানো হাতজাল দিয়ে ভেসে ওঠা মাছ সংগ্রহ করে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।
এ পদ্ধতিতে ছোট-বড় মাছ, মাছের পোনা, শামুক, সাপ, কাঁকড়া, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও ক্ষুদ্র জীব মারা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
দুধকুমার নদপাড়ের বাসিন্দা জুলহাস, শফিকুল ও ফরিদুল জানান, এক সময় দুধকুমার নদ দেশীয় মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। এ নদে বোয়াল, আইড়, শোল, গজার, টেংরা, পাবদা, পুঁটি, চিংড়ি, বাইম, কর্তি, বৈরালী, পিয়ালি, চান্দা ও খলিসাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু গত কয়েক বছরে কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল ও বৈদ্যুতিক শকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো দেশীয় মাছ মিলছে না।
 ভূরুঙ্গামারী বাজারে কথা হয় নলেয়া মাঝিটারী গ্রামের সাইফুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আগে দুধকুমার নদীতে সারা দিন জাল দিয়ে মাছ ধরলে আড়াই থেকে তিন কেজি মাছ পাওয়া যেত। আর এখন সারাদিন মাছ ধরে মাত্র এক কেজি মাছও পাওয়া যায় না। কারেন্ট শক দিয়ে মাছ মারায় নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাফিজুর রহমান জানান, বৈদ্যুতিক শকে মাছ ধারার ফলে মাছের  প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস  হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রানি মারা যাচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। যা মৎস্য  আইন  বহির্ভূত। এবিষয়ে  জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ অপরাধে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে রাতে মাছ ধরায় অপরাধীদের শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। তারপরও তারা আইনের আওতা থেকে রেহাই পাবে না। অভিযান অব‍্যাহত থাকবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম জানান, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাতের আঁধারে মাছ শিকার করায় জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। অবৈধ মাছ শিকারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা