• শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত ভারতের বিক্ষোভ দিল্লি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করবে, প্রত্যাশা বাংলাদেশের চিলমারীতে দফায় দফায় বাঁধে ধস, দেবে যাচ্ছে ব্লক, জিও ব্যাগ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না ভূরুঙ্গামারীতে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী ১২৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রেষ্ট উপহার চোখের নিমিষেই তিস্তায় বিলীন মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ কুড়িগ্রামে ভাঙনের করাল গ্রাসে আতঙ্কিত চরবাসী ভারতকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা হচ্ছে: দিলীপ ঘোষ ১২৮ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কুড়িগ্রামের চরবাসীর বেঁচে থাকার স্বপ্ন গবাদিপশু পালন

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে আতঙ্কে জনপদ: স্কুল বাঁচাতে মানববন্ধনে শিশুদের কান্না

Reporter Name / ৭০ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে নদীভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ছিল শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী—যাদের চোখেমুখে ভয়, অনিশ্চয়তা আর প্রিয় স্কুল হারানোর আশঙ্কা।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধা আছিয়া বেগম কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “এই ভিটাটুকুই আমাদের সব। নদী যদি নিয়ে যায়, আমরা কোথায় যাব?” একই সুর শোনা যায় আকলিমা, কবিজন নেছা ও বৃদ্ধ শাহাবুরের কণ্ঠে। নওশের আলী বলেন, “প্রতি বছরই ভাঙন দেখি, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাবে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব? আমার বন্ধুরা কি সবাই আলাদা হয়ে যাবে?” পাশে দাঁড়ানো তার সহপাঠী রাব্বি যোগ করে, “আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই।”
স্থানীয়দের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদও সেখানে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টু, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি এবং সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাংবাদিক ফজলুল করিম ফারাজি ।
সমাবেশে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ পায়। কিন্তু আমাদের দেশে তারা গৃহহীন হয়ে বারবার ঠিকানা বদলায়। যেন তারা এই দেশেরই মানুষ নয়।” তিনি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা হবে।”
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এ উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে? কারণ তাদের কাছে সময় খুব কম। প্রতিদিন একটু একটু করে নদী এগিয়ে আসছে জনপদের দিকে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার লড়াই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা