• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
হানিট্র্যাপ চরিত্রে দুই বাংলার জনপ্রিয় যাত্রাশিল্পী প্রিন্সেস বিউট ‘আ.লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই’ কুড়িগ্রামে এসএসবিসি প্রকল্পের আয়োজনে মাতৃ, নবজাতক, শিশু, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা কুড়িগ্রামে হাডুডু ঘিরে উৎসব, পুরস্কার গরু-ছাগল-রাজহাঁস ফুটপাত ছাড়াই মহাসড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে মানববন্ধন ভূরুঙ্গামারীতে ৫ পিস ইয়াবা টেবলেটসহ ইয়াবাসেবী কাদের আটক কুড়িগ্রামে শিশু-কিশোরদের গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব নিয়ে রাজারহাট ইউএনওর প্রশংসায় স্থানীয়রা ফারুকী-তিশার সংসারে ভাঙনের গুঞ্জন সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন শফিকুর রহমানের

কুড়িগ্রামের মীরেরবাড়িতে সবজির সবুজ বিপ্লব, ৮০০ কৃষকের ঘামে বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  / ৭০ Time View
Update : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোরের আলো ফুটতেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরেরবাড়ি গ্রামের মাঠে শুরু হয় কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। কেউ জমিতে সবজির পরিচর্যা করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ফসল সংগ্রহে। বেগুন, করলা, লাউ, শিম থেকে শুরু করে পাতাকপি ও ফুলকপি-বছরের প্রায় প্রতিটি মৌসুমেই সবুজে ভরে থাকে গ্রামের মাঠ। তাই স্থানীয়দের কাছে মীরেরবাড়ি এখন পরিচিত ‘সবজির রাজ্য’ হিসেবে।
বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ছিনাইয়ের মীরের বাড়ি গ্রামে সবজির সমারোহের দৃশ্য। যেদিকে তাকানো হয়ে সেই দিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজারহাট উপজেলায় সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬০ হেক্টর। এর মধ্যে মীরেরবাড়িতেই আবাদ হয়েছে ৪০০ হেক্টর, যা উপজেলার মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৩ শতাংশ। এক গ্রামেই প্রায় ৮০০ কৃষক সরাসরি সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত।
কৃষকেরা জানান, মীরেরবাড়ির দোআঁশ মাটি ও তুলনামূলক উঁচু জমি সবজি চাষের জন্য উপযোগী। অতিরিক্ত পানি জমে না থাকায় বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ভালো ফলন হয়। বাজারে চাহিদা ও তুলনামূলক লাভজনক হওয়ায় ধানের পরিবর্তে অনেকেই সারা বছর সবজি চাষ করছেন।
স্থানীয় কৃষক জাহেরুল ইসলাম বলেন, “মুই সারা বছর মোর জমিত আনাইজ (সবজি) চাষ করোং। হামার এই মাটিত যাদু আছে। অল্প সার দিয়া ভালো আবাদ হয়, লাভও ভালো।”
তিনি জানান, ৫০ শতক জমিতে পাতাকপি ও ৬০ শতকে ফুলকপি চাষে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রায় ২ লাখ টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন। ৪০ শতক জমিতে হলুদ চাষে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা; সেখান থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার হলুদ বিক্রির প্রত্যাশা তাঁর।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি সমস্যাও রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সার কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেক সময় চাহিদামতো সারও পাওয়া যায় না। পাশাপাশি কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় পাইকার দুলু মিয়া বলেন, মীরেরবাড়ির সবজি রাজারহাটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। তাঁর দাবি, কৃষকের কাছ থেকে ৩০ টাকায় কেনা সবজি বাইরে প্রায় ৫০ টাকায় পাঠানো হয় এবং খুচরা বাজারে তা আরও বেশি দামে বিক্রি হয়।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায়, গত অর্থবছরে মীরেরবাড়িতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০০ হেক্টর এবং অর্জনও হয়েছে ৪০০ হেক্টর। সারসংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো সারসংকট নেই। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা