• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
অবহেলায় যেন গণতন্ত্র হারিয়ে না যায়: রাষ্ট্রপতি রিশাদ-আলিসের ঘূর্ণিতে সিরিজ বাংলাদেশের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোর্ত্তীন পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে পলাশপুর গ্রাম নিশ্চিহৃ হওয়ার আশঙ্কা কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি একটি কিডনির জন্য থমকে গেছে সজিবের জীবন আড়াই বছরের মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান তিনি পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আব্দুল লতিফ, ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ ব্রিকস সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’

অবহেলায় যেন গণতন্ত্র হারিয়ে না যায়: রাষ্ট্রপতি

যুগের খবর ডেস্ক: / ১২ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে। বিভিন্ন সময়ে সেই পথে বাধাও এসেছে। এবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, কোনোভাবেই অবহেলার কারণে যেন আবার গণতন্ত্র হারিয়ে না যায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গত ১৬ বছর দেশের ইতিহাসে একটি জটিল সময় অতিক্রম করেছে।
গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহতও হয়েছেন অনেকে। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও মানুষের প্রাণের বিনিময়ে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হলো ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।
তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হবে। সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। সংসদ যেন সঠিকভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই হয়েছে। এখন দেশের পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সামনের লড়াই হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বাসযোগ্য আবাস নির্মাণ করা।
জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল থাকবে, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে একমত হয়ে দেশের স্বার্থে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাই আসুন- আমাদের যে সাধারণ বিষয়গুলো আছে, সেই বিষয়গুলোতে একমত হই এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। এই সম্প্রীতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য। দেশের অগ্রযাত্রায় এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
প্রবাসীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের বিনিয়োগকে পর্যটন, কৃষি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, চা, মৎস্য, গ্যাস, তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সিলেটের হাওর ও জলাশয়কে কেন্দ্র করে মৎস্য চাষের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাত আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিলেট সম্পর্কে তিনি বলেন, বহুবার সিলেটে এসেছি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে অতীতেও সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। গণতন্ত্রের আন্দোলনেও সিলেটের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সিলেটবাসীর প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যেমন অতিথিপরায়ণতা ও শান্তিপ্রিয়তা, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ঐতিহ্যও রয়েছে। গণতন্ত্রের আন্দোলনে সিলেটের মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে সিলেটের গুণী ব্যক্তিদের স্মরণ করে বলেন, হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, সুফি সাধক শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো বহু কৃতি মানুষের জন্ম ও কর্মের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধেও সিলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। বেশ কিছু বড় প্রকল্প ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেট তার অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। সুযোগ পেলেই তিনি সিলেটে আসেন। এ অঞ্চলের মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া বহু গুণী মানুষের জন্ম এ অঞ্চলে। সাহিত্য, সংগীত, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সিলেটের অবদান রয়েছে। সিলেটের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, চা-বাগান ও প্রবাসী জনগোষ্ঠী এ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে পর্যটন খাতে আরও বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব।
নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য উদ্যোগী হওয়া আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ এসে সবকিছু করে দিয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা না করে নিজেদের সামর্থ্য ও ঐক্যকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা যদি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারি, আমরা যদি নিজেদের দাবি নিজেরা আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে আমাদের জন্য করে দিয়ে যাবে না।
অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে নাগরিক সভায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা