• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
Headline
কুড়িগ্রামে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক, লাভ নিয়ে শঙ্কা জানুয়ারিতেই নতুন আলু বিক্রির প্রস্তুতি রাজারহাটে ৮টি ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই, বেহাল ডাকসেবা চিলমারীতে হাতের ভেতর কাচের টুকরা রেখেই সেলাই, এক মাস পর অস্ত্রোপচারে বের করলেন অন্য চিকিৎসক কুড়িগ্রামে ১১৭০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩, একজনের বিরুদ্ধে ২০ মামলা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ভালো থেকো কুড়িগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী খন্দকারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন উলিপুরে অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু রাজারহাটে কিশোরীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে মতবিনিময় সভা কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

রাজারহাটে ৮টি ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই, বেহাল ডাকসেবা

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

একসময় গ্রামের মানুষের কাছে জরুরি চিঠি, চাকরির নিয়োগপত্র কিংবা ব্যাংকের কাগজপত্র পাওয়ার অন্যতম ভরসা ছিল ডাকঘর। সেই ডাকঘরেরই এখন অনেক শাখার স্থায়ী ঠিকানা নেই। কোথাও পোস্টমাস্টারের বাড়ির একটি কক্ষে চলছে সরকারি ডাকসেবা, কোথাও কর্মীরা নিজেদের বেতনের টাকা থেকে ভাড়া করা ঘরে অফিস পরিচালনা করছেন। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ৯টি শাখা পোস্ট অফিসের মধ্যে ৮টিরই নেই নিজস্ব ভবন। শুধু একটি শাখা চলছে নিজস্ব ভবনে। অন্যদিকে উপজেলা ডাকঘরের নিজস্ব ভবন থাকলেও সেটিও জরাজীর্ণ। ডাকঘর শুধু চিঠি আদান-প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়, গ্রামীণ মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্র। তাই রাজারহাটের ভবনহীন ৮টি শাখায় দ্রুত নিজস্ব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় আসবাব, নিরাপদ নথি সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নিয়মিত ডাকসেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
সরকারি ডাকসেবার এমন অবকাঠামোগত সংকটে প্রশ্ন উঠেছে চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ, সেবার নিয়মিত কার্যক্রম এবং গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় ডাকসেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে। একসময় যে ডাকঘর ছিল গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম, সময়ের সঙ্গে সেই সেবার জায়গা দখল করছে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস।
উপজেলা ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাটে একটি উপজেলা ডাকঘর, একটি সাব পোস্ট অফিস এবং ৯টি শাখা পোস্ট অফিস রয়েছে। শাখাগুলো হলো-বৈদ্যেরবাজার, মীরের বাড়ি, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, রতিগ্রাম, সিঙ্গারডাবরি, সিন্দুরমতি, ডাংরারহাট, নীলেরকুটি ও জোড়সয়রা। এর মধ্যে শুধু সিঙ্গারডাবরি শাখার নিজস্ব ভবন রয়েছে। বাকি ৮টি শাখার কার্যক্রম চলছে কর্মীদের বাড়ি কিংবা ভাড়া করা ঘরে। নাজিমখান সাব পোস্ট অফিসও রয়েছে ভাড়া করা ভবনে।
জোড়সয়রা শাখা পোস্ট অফিসের ইডিডিএ মোজাফফর হোসেন জানান, তাদের নিজস্ব কোনো অফিস নেই। তিনজন কর্মী মিলে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ডাকসেবা পরিচালনা করছেন। মাসে ১০০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা ভাড়া দেন তারা। অফিসের প্রায় সাত হাজার টাকার আসবাবপত্রও নিজেদের টাকায় কিনেছেন।
মোজাফফর হোসেন বলেন, “চিঠি ও ব্যাংক লোনের চিঠি খুব আসে। আমরা সব সময় বিলি করার সময় পাই না। আমাদের প্রতিমাসে মাত্র ৪ হাজার ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়।”
তবে স্থানীয় ভূক্তভোগী বাসিন্দা মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, জোড়সয়রা পোস্ট অফিস নিয়মিত খোলা থাকে না। কোনো কোনো দিন সকাল ৯টার দিকে খুলে ১০টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। ৩ কর্মীর সবাই প্রতিদিন উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ তার।
ডাংরারহাট শাখা পোস্ট অফিসের ইডিএ জ্যোৎস্না আক্তারের অভিমত একই রকম। আগে বাজারের একটি ভাড়া করা ঘরে অফিসের কার্যক্রম চলত। মাসে ৬০০ টাকা ভাড়াও কর্মীদের নিজেদের বহন করতে হত। প্রায় তিন বছর ধরে তার নিজের বাড়িতেই চলছে পোস্ট অফিস।
জ্যোৎস্না আক্তার বলেন, “সিমেন্টের দোকানের পাশে অফিস ছিল। প্রতিদিন ট্রাক আসা-যাওয়া করত। তাই বাড়িতে পোস্ট অফিস করেছি। আমার শ^শুর ৩ শতাংশ জমি দিয়েছেন। কিন্তু অফিসের জন্য কোনো বাজেট হয়নি।”
এই শাখায় কর্মরত রয়েছেন জ্যোৎস্না আক্তার, মো. পেয়ারুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী।
আরেকটি শাখা পোস্ট অফিসের ইডিডিএ আবু হানিফ জানান, তাদের পোস্ট অফিসের ঘর ঝড়ে ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় ১২ বছরেও নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে নিজের বাড়িতেই ডাকঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি।
আবু হানিফ বলেন, ‘শুরুতে ৩ শতক জমি সরকারের নামে দেওয়া হয়েছিল। ঘরও করেছিলাম। ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ার পর আর করা হয়নি। ১২ বছর ধরে অফিস নাই, নিজেদের বাড়িতেই অফিস করে কাজ করি।’
তিনি জানান, চাকরির শুরুতে তাদের মাসিক বেতন ছিল ৩০০ টাকা। ধাপে ধাপে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৩৪০ টাকা হয়েছে। গ্রাম থেকে এখন খুব কম চিঠি পাঠানো হয়। মূলত শহর থেকে গ্রামে আসা চিঠিই তারা বিলি করেন।
রাজারহাট উপজেলা ডাকঘরে পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিন, পোস্ট অপারেটর জোবাইদুল ইসলাম, পোস্টম্যান নুরুল ইসলাম ও পেকার রফিকুল ইসলাম কর্মরত রয়েছেন। নাজিমখান সাব পোস্ট অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন পোস্টমাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম ও একজন পোস্টম্যান।
শাখা পোস্ট অফিসগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা পোস্টমাস্টার সুরভী শারমিন বলেন, “আমার দায়িত্ব শুধু হিসাব গ্রহণ করা। এর বাইরে শাঁখা অফিস সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় অনেক শাখা পোস্ট অফিস প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা জমি দিয়েছিলেন। কোথাও কর্মীরা নিজেদের অর্থে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেসব অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি ডাকসেবার অনেক শাখা হারিয়েছে নিজস্ব ঠিকানা।
এদিকে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তারের পাশাপাশি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। জরুরি কাগজপত্র ও পার্সেল দ্রুত পাঠানোর জন্য মানুষ এখন অনেক ক্ষেত্রে ডাকঘরের পরিবর্তে কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করছেন। অবকাঠামোগত সংকট, সীমিত জনবল ও ডাক বিলিতে ধীরগতির অভিযোগ এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
লালমনিরহাট প্রধান ডাকঘরের পোস্ট অফিস পরিদর্শক ও রাজারহাট উপজেলার শাখা পোস্ট অফিসের পরিদর্শক মোকলেছুর রহমান বলেন, শাখা অফিসের ইডিএ, ইডিডিএ ও ইডিএমসি পদে কর্মরত ব্যক্তিরা সংস্থাপন শাখার মাধ্যমে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা ভাতা পান। কোনো শাখায় একজন, কোথাও দুজন, আবার কোথাও তিনজন কর্মী রয়েছেন।
তিনি জানান, কর্মীদের ভাতা বাড়ানো ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা