• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
Headline
অবহেলায় যেন গণতন্ত্র হারিয়ে না যায়: রাষ্ট্রপতি রিশাদ-আলিসের ঘূর্ণিতে সিরিজ বাংলাদেশের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোর্ত্তীন পণ্য ধ্বংস করেছে কাস্টমস দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে পলাশপুর গ্রাম নিশ্চিহৃ হওয়ার আশঙ্কা কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি একটি কিডনির জন্য থমকে গেছে সজিবের জীবন আড়াই বছরের মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান তিনি পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আব্দুল লতিফ, ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ ব্রিকস সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’

রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজে শিক্ষক সংকট সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  / ৭৮ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজে তীব্র শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান। ৬০টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৮ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৩২টি পদ। এর মধ্যে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক দুর্বলতা ও নানা আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে গত ৮ জুন স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসেবে ২২তম বিসিএস ক্যাডারের অধ্যাপক মো. জহুরুল হক যোগদানের পর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির ৩৩টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ১৬টিতে অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। কয়েকটি হিসাবে কোনো অর্থ ছিল না; একটি চলতি হিসাবে ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। একই সময়ে অতিথি শিক্ষক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন বকেয়া ছিল। অগ্রাধিকার দিয়ে সেই বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।
শিক্ষক সংকট মোকাবেলায় ১২ জন নতুন অতিথি শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনজন অতিথি শিক্ষক পাঠদান করছেন। কলেজে শিক্ষক ছাড়াও গ্রন্থাগারিক, শরীরচর্চা শিক্ষক ও প্রদর্শক পদে জনবল সংকট রয়েছে।
প্রভাষক সাহেব আলী বলেন, ৬০টি শিক্ষক পদের মধ্যে ৩২টি শূন্য থাকায় নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম শেষ করতেও সমস্যা হচ্ছে।
প্রভাষক তপতি রানী বলেন, শিক্ষক সংকটের প্রভাব বিজ্ঞান বিভাগে বেশি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ও ব্যবহারিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারিক কক্ষও অব্যবহৃত ছিল। এতে আসন থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কমছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব ফলাফলেও পড়তে পারে।
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাতুন বিনতে বুশরা জানায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েও শিক্ষক সংকটের কারণে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু মানবিক বিভাগেও ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নতুন অধ্যক্ষ যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও একাডেমিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষককে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতিও নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
প্রভাষক সংগীতা রানী বলেন, প্রশাসনিক কাজে শৃঙ্খলা ফিরেছে। রেজিস্টার, ক্যাশবই ও চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। শ্রেণিকক্ষে ফ্যান সংযোজন, সিসিটিভি স্থাপন, ল্যাব সংস্কার, সীমানাপ্রাচীর ও ছাত্রীদের বাথরুম মেরামতসহ পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ সংস্কার করা হচ্ছে।
অতিথি শিক্ষক চৌধুরী রিংকু র‌্যাবেন বলেন, অধ্যক্ষ যোগদানের সময় দুই মাসের বেতন বকেয়া ছিল। বর্তমানে সেই বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।
সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।
কলেজ কর্মচারী নিতাই চন্দ্র রায় বলেন, এখন নিয়মিত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, এতে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মীর মুহঃ হাবিবুল্লাহর সময়কার শৃঙ্খলার কথা মনে পড়ে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে মীর মুহঃ হাবিবুল্লাহর উদ্যোগে কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। ২০১৮ সালে কলেজটি সরকারি করা হলেও স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক নানা সমস্যা দীর্ঘদিন বহাল ছিল। বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ¯œাতক এবং ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
শনিবার(২৯আগস্ট) দুপুরে ওই কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জহুরুল হক বলেন, কলেজে অনেক সমস্যা রয়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতিথি শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় সুশীল সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা