• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline
সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট বাস্তব কথা আবরার ফাহাদ হত্যার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর শনিবার মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা কুড়িগ্রামে সিএনজি চলাচলের অনুমতির দাবিতে চালকদের সড়ক অবরোধ রাজারহাটে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি, সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান ইউএনও’র এক দশক ধরে অধরা ব্রিজ সীমাহীন দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভূরুঙ্গামারীতে নব যোগদানকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সংবর্ধনা ভূরুঙ্গামারীতে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারীতে “আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০বছর” পূর্তি উদযাপিত

এক দশক ধরে অধরা ব্রিজ সীমাহীন দুর্ভোগে এলাকাবাসী

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  / ১৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

একটি বড় খালের উপর ভাঙা ব্রিজ, আর তাকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস। দীর্ঘ ১২ বছর পূর্বে এক প্রলয়ংকরী বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছিল কুড়িগ্রামের এই জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি। এক দশক পেরিয়ে গেলেও আজো মেলেনি সমাধান। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দফায় দফায় দেওয়া আশ্বাস কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সেই ব্রিজ আর আলোর মুখ দেখেনি। প্রশাসন থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও আদৌ কাজ হবে কিনা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে জনতারহাট ও সাকোরপাড় সড়কের উপর নিমির্ত ব্রিজটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্স ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের উপছে পড়া বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচের অংশের মাটি সরে গিয়ে সেটি ডেবে যায়। এখন বর্ষাকালে কলার ভেলায় বা ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে শিক্ষার্থীরা। শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে হেঁটে ব্রিজের অংশ পাড়ি দিতে হয়। ফলে এই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষায় কমে যায় স্কুলের উপস্থিতি। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর রোগীর স্বজনরা পরেছেন চরম বিপাকে।
জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমা খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে আমরা স্কুলে যেতে ভয় পাই। অনেকে এসময় স্কুলে যায় না।
বোতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, ব্রিজের ওপারে চাষবাস করতে গিয়ে সমস্যায় পরি। অনেক ঘুরে যেতে হয়। ধান-পাট কাটার পর নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। যারা ছোটখাটো ব্যবসা-পাতি করেন তারাও ভোগান্তির মধ্যে পরেছেন।
দলন গ্রামের গৃহিনী মনজিলা বেগম জানান, ব্রিজটার জন্য আমরা হাহাকার করি। আমার স্বামী অটোচালায় কিন্তু এই পথে যেতে পারে না। একজন অসুস্থ্য হলে তাকে কষ্ট করে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়। মেম্বার চেয়ারম্যানরা ভোটের সময় এসে অনেক কথা বলে যায় কিন্তু ব্রিজটার কাজ আর হয় না।
খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রিজের এপাড়ে-ওপাড়ে ৪টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। শিশু শিক্ষার্থীদের খুবই কষ্ট হয় চলাচল করতে। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান এই শিক্ষকসহ এলাকাবাসী।
জনাব আলী নামে স্থানীয় একজন সচেতন যুবক বলেন, এই ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দলন, বোতলা, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, তেলিপাড়া, পানাতিপাড়া ও বটতলা এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের চরম কষ্ট হয়েছে। এছাড়াও খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়, মুসল্লীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং বুড়াবুড়ি হাইস্কুলে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে তাদেরকে অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও কোন সমাধান হচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজির রহমান খোঁজখবর নিয়ে এই প্রতিনিধিকে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সাকোয়ারপাড় ব্রিজটি আগামি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশাকরি আগামি বছর ব্রিজটি পূননির্মাণ করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা