কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের, ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের দফায় দফায় ধস দেখা দিয়েছে। দেবে যাচ্ছে ব্লক, জিও ব্যাগ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।
চলতি বর্ষা মৌসুমে এ নিয়ে বাঁধটির প্রায় ১৬০থেকে ১৭০মিটার এলাকায় বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। নদের তীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সরকটারী এলাকায় প্রায় ৬০মিটার সিসি ব্লক ধসে নদে বিলীন হয়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আঃ মজিদ মিয়া বলেন, এখানে যে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে এই বস্তা দিয়ে কোন কাজ হবে না। উপুর থাকি যদি বস্তা আরও বেশি দিলে হয়। তাহলে হয়তো সম্ভব হতো। আহম্মদ আলী বলেন, এই বাঁধের রাস্তা যদি ভালো করি না বাদেন তাহলে রাস্তা ভাঙি গেলে হামরা গুলে কন্ডে কোনা যামো। মিলন মিয়া বলেন, এই বস্তা দিয়ে হয়তো বা সাময়িকভাবে আটকানো যাবে, আমার সরকারের কাছে আবেদন স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়। রবিউল ইসলাম, মানিক মিয়া, মরিয়ম বেগম, গোলজান বেওয়া ও সিহাব মিয়া বলেন, নদী ভাঙলে আমাদের ঘর-বাড়ি ও ভাঙি যাবে আমরা নদী বান্দি চাই, এটা তো অস্থায়ী বাজেট আমরা স্থায়ী বাজেট চাই। তারা আরও বলেন, ব্লক ধসে পড়ে। বিষয়টি জানানো হলে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা এসে জিও ব্যাগ ফেলতে শুরু করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলো হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, বাঁধের ওপর দিয়ে বালুভর্তি ভারী ডাম্পার চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ফলে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্ষায় নদীর স্রোত বাড়লেই একই স্থানে পাশাপাশি বারবার বাঁধের ধস দেখা দিচ্ছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর কাঁচকোল বাজারের পাশে যে ভাঙনের দেখা দিয়েছে। এখানে আমরা ৬হাজার জিও ব্যাগ দিয়েছি, যা সকাল থেকে ৪৭শ জিও ব্যাগ ভরানো হয়েছে এবং এ গুলো ডাম্পিং করানো হয়েছে। এতে করে কিছুটা ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আমরা মোট ১২হাজার জিও ব্যাগের অনুমোদন পেয়েছি। আবারও ৪হাজার জিও ব্যাগ এসেছে রাতে ভরানো হবে। পর্যায়ক্রমে ১২হাজার জিও ব্যাগ ফেলানো হবে, আশা করি কাল পরশুর মধ্যেই এই জায়গা টা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে জানান তিনি।