• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

রাজারহাটে ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  / ১৬ Time View
Update : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ব্রিজ নির্মাণের পরও সংযোগ সড়কের দুই পাশে মাটি না দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কাদা-পানি পেরিয়ে চলাচলের পর সম্প্রতি ব্রিজের দুই পাশে মাটির পরিবর্তে বাঁশের চাটাই (চড়াট) বসানো হয়েছে। এতে পথটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় ছয় ফুট খাড়া বাঁশের চাটাই বেয়ে ব্রিজে ওঠানামা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের। ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলও চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজ নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ যথাযথভাবে না করায় সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোর সুফল মিলছে না। তাঁরা বলেন, ‘ত্রাণের কাজে যেন প্রাণ নেই, ব্রিজ হয়েছে, কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা হয়নি।’
রাজারহাট সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নাটুয়ামহল ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেতনা গ্রামের সীমান্ত এলাকায় ছিঁড়ারপাড় নামের খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজটি। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ মাটির রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৯ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুনে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ সময় নিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের দুই পাশে মাটি না দেওয়ায় সেটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিলেন না স্থানীয়রা। বর্ষাকালে কাদা ও হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে তাদের। অনেকে বাধ্য হয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে ব্রিজটির দুর্ভোগের বিষয়টি উঠে আসার পর দুই পাশে বাঁশের চাটাই বসানো হয়েছে। কিন্তু এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা এ পথ এড়িয়ে চলছেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীকেও বিকল্প পথে ঘুরিয়ে নিতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে খাড়া বাঁশের চাটাই বেয়ে ব্রিজে ওঠানামা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় তাদের।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলো রানী বলেন, সাইকেল নিয়ে বাঁশের চাটাই বেয়ে উপরে উঠতে এবং নামতে আমাদের ভয় লাগে। অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে যাই।
চেতনা গ্রামের নয়াবাড়ি এলাকার শরীফ উদ্দিনের ছেলে আবু হানিফ (৪৪) বলেন, ব্রিজের দুই পাশে মাটি না দেওয়ায় কিছুদিন আগেও স্কুলের ছেলেমেয়ে ও হাটবাজারে যাওয়া মানুষকে হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। অনেক বলাবলির পর মাটির বদলে চাটাই দিয়েছে। এতে অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
নাটুয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজ (৪৮) বলেন, চেতনা, নাটুয়া, পোদ্দারপাড়া, নয়াবাড়ি, শামকালিয়া ও রামপাড়া গ্রামের প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ঠিকাদার সময়মতো কাজ করলে এই ভোগান্তি হতো না।
রাজারহাট সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নাটুয়ামহল গ্রামের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ব্রিজের দুই পাশে মাটি না দেওয়ায় মানুষের খুব ভোগান্তি হচ্ছে। আমি চাই দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা হোক।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করা হবে। স্থানীয়রা মাটি না দেওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। ঠিকাদার সেখানে ভেকু নিয়ে গেলেও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে কাজে বিলম্ব হয়েছে। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, এই সমস্যা আর থাকবে না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা