• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
নাটকের কাস্টিং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ পারসা ইভানার ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল বিজয়ী রাজারহাটে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১১৯তম জন্মজয়ন্তী পালিত কুড়িগ্রামে ৯ বছর ধরে ড্রামের ভেলায় পারাপার ১২ হাজার মানুষের কুড়িগ্রামে ঘর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, উড্ডয়ন হতে পারে রাত সাড়ে ১০টায় ভূরুঙ্গামারীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুড়িগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু বিভাগ সেরা হয়ে জাতীয় পর্যায়ে উলিপুরের শাহীন আলম

কুড়িগ্রামে ৯ বছর ধরে ড্রামের ভেলায় পারাপার ১২ হাজার মানুষের

পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:  / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

চারটি প্লাস্টিকের ড্রাম, তার ওপর বাঁশ ও কাঠের পাটাতন। খালের দুই পাড়ে বাঁধা দড়ি ধরে টেনে সেই ভেলায় পার হতে হয় মানুষকে। ভোর থেকে গভীর রাত—এটাই তাঁদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। ভেলায় চড়ে স্কুলে যায় শিশুরা, খাল পার হন কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। একটি সেতুর অভাবে এভাবেই ৯ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, কামারের ছড়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ নয় বছরেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। বর্ষায় পানির গভীরতা বাড়লে বাড়ে আতঙ্ক। অন্যদিকে বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।
সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন ফসল বাজারে নিতে তাঁদের অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে, নষ্ট হচ্ছে সময়। শেষ পর্যন্ত ফসল বিক্রির লাভের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে বাড়তি যাতায়াতে।
স্থানীয় কৃষক আনসার আলী বলেন, ‘সোগায় মিলে হামরা এটে আবাদ-সুবাদ করি খাই। জমির ফসল বেচে সংসার চলাই। এই ব্রিজটা ভাঙ্গি কি যে কষ্ট হইছে হামার। ধান হাট ধরি যাবার গেইলে দুই মুল্লুক ঘুড়ি যাওয়া নাগে। কষ্ট আর খরচা দুখ্যানে বেশি হয়।’
শুধু কৃষিকাজ কিংবা বাজারে যাতায়াত নয়, সেতুর অভাবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া। খালের ওপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র ভরসা ড্রামের ভেলা। ছোট শিশুদের এভাবে পারাপার করাতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় অভিভাবকদের। অনেকেই সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেরাই খাল পার করে দেন। ছুটির পর আবার গিয়ে নিয়ে আসেন।
এক শিশুর অভিভাবক খালেদা বেগম বলেন, ‘এই খালোত অথাও পানি। ড্রাম দিয়া খাল পার হয়া মোর ছাওয়া প্রাইমারি ইস্কুল যায়। ভয় নাগে ছোট ছাওয়া, ওইজন্যে মুই পার করি দেং। ফের ছুটি হইলে নিয়া আইসোং। ব্রিজটা হইলো নিশ্চিন্তে ছাওয়া ইস্কুল গ্যালো হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা রোস্তম মিয়া বলেন, ‘এই ড্রাম দিয়া পুত্যিকদিন দেড় হাজার খানেক মানুষ খাল পার হয়। স্কুলের ছাওয়া পোয়া তো আছে। এতগুলা মানুষের কষ্ট এই একনা ব্রিজের জন্যে। ব্রীজখান হইলে হামারগুলার খুব উপকার হইবে।’
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, কামারের ছড়া খালের ওপর সেতু না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি তাঁদের জানা রয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার প্রায় ১২ হাজার মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা নিরাপদে চলাচল এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারবেন। জনদুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা